| বঙ্গাব্দ

১৯৬ আসনে জাপার প্রার্থী ঘোষণা: গণভোটে ‘না’ ভোটের ডাক জিএম কাদেরের |

রিপোর্টারের নামঃ BDS Bulbul Ahmed
  • আপডেট টাইম : 20-01-2026 ইং
  • 2956163 বার পঠিত
১৯৬ আসনে জাপার প্রার্থী ঘোষণা: গণভোটে ‘না’ ভোটের ডাক জিএম কাদেরের |
ছবির ক্যাপশন: জাপার প্রার্থী ঘোষণা

ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন: ১৯৬ আসনে জাপার প্রার্থী ঘোষণা, গণভোটে ‘না’ ভোটের ডাক জিএম কাদেরের

প্রতিবেদক: বিডিএস বুলবুল আহমেদ

ঢাকা: ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক উত্তাপের মধ্যেই ১৯৬ আসনে চূড়ান্ত প্রার্থীর নাম ঘোষণা করেছে জাতীয় পার্টি (জাপা)। মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) রাজধানীর গ্র্যান্ড প্যালেস হোটেলের ব্যানকুয়েট হলে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে প্রার্থীদের তালিকা প্রকাশ করা হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জি এম কাদের।

প্রার্থী তালিকা ও নির্বাচনী প্রস্তুতি

জাতীয় পার্টির মহাসচিব শামীম হায়দার পাটোয়ারী সংবাদ সম্মেলনে জানান, প্রাথমিকভাবে ১৯৬ জন প্রার্থীর তালিকা চূড়ান্ত করা হয়েছে। আরও দুটি আসনে প্রার্থীর নাম পেন্ডিং থাকায় শেষ পর্যন্ত জাপার প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর সংখ্যা ১৯৮ জনে দাঁড়াতে পারে।

দলীয় চেয়ারম্যান জি এম কাদের বলেন, "আমরা ১৯৬ জন বৈধ প্রার্থী পেয়েছি, যার মধ্যে ৬ জন নারী প্রার্থী রয়েছেন। পরবর্তীতে আরও ২-৩ জন এই তালিকায় যুক্ত হতে পারেন।" তবে নির্বাচনের পরিবেশ নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করে তিনি বলেন, "আমাদের রাজনীতি থেকে দূরে সরিয়ে রাখার চেষ্টা করা হচ্ছে। আমরা নির্বাচনের জন্য কোনো 'লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড' পাচ্ছি না।"

গণভোটে ‘না’ ভোটের আহ্বান

সংবাদ সম্মেলনে আসন্ন সাংবিধানিক গণভোট নিয়ে কড়া অবস্থান ব্যক্ত করেন জি এম কাদের। তিনি দেশবাসীকে এই গণভোটে ‘না’ ভোট দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, "এই গণভোট সংবিধানবিরোধী ও অবাস্তব। এটি বাস্তবায়িত হলে দেশ চরম অস্থিতিশীলতার দিকে ধাবিত হবে।" উল্লেখ্য যে, অন্তর্বর্তী সরকার রাষ্ট্র সংস্কার ও 'জুলাই সনদ' বাস্তবায়নের লক্ষ্যে আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ তারিখে নির্বাচনের পাশাপাশি একটি গণভোটের আয়োজন করতে যাচ্ছে।

ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট: ১৯০০ থেকে ২০২৬

বাংলাদেশের রাজনীতিতে জাতীয় পার্টির উত্থান ১৯৮০-র দশকে সাবেক রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের হাত ধরে। ১৯০০ সালের ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলন থেকে শুরু করে ১৯৫২-র ভাষা আন্দোলন এবং ১৯৭১-এর মহান মুক্তিযুদ্ধ—প্রতিটি ধাপেই বাংলার রাজনৈতিক মেরুকরণ বদলেছে। ১৯৮৬ সালের নির্বাচনের মাধ্যমে এরশাদ সংসদীয় ব্যবস্থায় ফেরার চেষ্টা করেছিলেন। পরবর্তীকালে ১৯৯১, ২০০৮ ও ২০১৮-এর পর ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের ছাত্র-জনতার বিপ্লব বাংলাদেশের রাজনীতিতে আমূল পরিবর্তন আনে।

২০২৬ সালের এই ত্রয়োদশ নির্বাচন ও গণভোটকে কেন্দ্র করে জাতীয় পার্টি তাদের অস্তিত্ব রক্ষায় নতুন করে জোট ও প্রার্থী সাজাচ্ছে। ২০২৫ সালের মাঝামাঝি মহাসচিব হিসেবে শামীম হায়দার পাটোয়ারীর নিয়োগের পর দলটি তৃণমূল পর্যায়ে পুনর্গঠনের চেষ্টা চালিয়ে আসছে।

বিশ্লেষণ

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, জাতীয় পার্টি একদিকে যেমন সংসদ নির্বাচনে অংশ নিয়ে নিজেদের জনসমর্থন যাচাই করতে চায়, অন্যদিকে গণভোটের বিরোধিতা করে সরকারের সংস্কার প্রক্রিয়ার বিরুদ্ধে একটি শক্ত অবস্থান তৈরির চেষ্টা করছে। জি এম কাদেরের এই ‘না’ ভোটের ডাক ২০২৬ সালের নির্বাচনী রাজনীতিতে এক নতুন মাত্রা যোগ করল।


সূত্র: যুগান্তর, গুগল আর্কাইভ, বাসস (BSS), এবং ২০ জানুয়ারি ২০২৬-এর সংবাদ সম্মেলন।

প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুনবাংলাদেশ প্রতিদিন

নিউজটি শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর..
ফেসবুকে আমরা...
নামাজের সময়সূচী
জাতীয় সঙ্গীত
©সকল কিছুর স্বত্বাধিকারঃ বাংলাদেশ প্রতিদিন সত্যের সন্ধানে সব সময় | আমাদের সাইটের কোন বিষয়বস্তু অনুমতি ছাড়া কপি করা দণ্ডনীয় অপরাধ
সকল কারিগরী সহযোগিতায় BDS Digital Marketing Agency